মাত্র ৪৩ বছর বয়সে না ফেরার দেশে গায়ক ও ‘পাতাললোক 2’ খ্যাত অভিনেতা প্রশান্ত তামাং । রবিবার নয়াদিল্লিতে নিজের বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি । প্রশান্তের আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে পরিবারও ৷ প্রশান্ত তামাংয়ের দিদি অনুপমা গুরুং বলেন, “ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই আকাশ ভেঙে পড়ে । আমরা আজই দিল্লি যাচ্ছি । সম্ভবত সোম বা মঙ্গলবার ভাইয়ের দেহ দার্জিলিংয়ে নিয়ে আসা হবে ।” প্রশান্ত তামাংয়ের অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ শৈলরানি । শোকপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা ৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “‘ইন্ডিয়ান আইডল’ খ্যাত গায়ক এবং জাতীয় ক্ষেত্রে খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী প্রশান্ত তামাং-এর আজ আকস্মিক ও অকালমৃত্যুতে আমি শোকাহত । আমাদের দার্জিলিং পাহাড়ে তাঁর শিকড় এবং কলকাতা পুলিশের সঙ্গে একসময়ের যোগাযোগ তাঁকে বাংলায় আমাদের কাছে বিশেষভাবে প্রিয় করে তুলেছিল । আমি তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং অগণিত অনুগামীদের প্রতি আমার সমবেদনা জানাই ।” আদতে দার্জিলিংয়ের টুংসুঙ্গয়ের বাসিন্দা ছিলেন প্রশান্ত তামাং । 1983 সালের 4 জানুয়ারি তিনি দার্জিলিংয়ে জন্মগ্রহণ করেন । বাবার আকস্মিক মৃত্যুর পর রাজ্য পুলিশে তাঁর চাকরিটাই পান প্রশান্ত । তবে একইসঙ্গে নিজের সঙ্গীত চর্চা চালিয়ে যান তিনি । এমনকি পুলিশের অর্কেস্ট্রাতেও গান গাইতেন প্রশান্ত । প্রশান্ত তামাং ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ সিজন-3 বিজয়ী । কলকাতা পুলিশের কর্মী থেকে তাঁর গানের মঞ্চের তারকা হয়ে ওঠার এই সফরটি ছিল অনেকটা রূপকথার মতো । ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি টান ছিল তাঁর । তাই নিজের ইচ্ছার ডাকে সাড়া দিয়ে ‘ইন্ডিয়ান আইডল 3’- এ অংশ নেন তিনি । প্রথম থেকেই শ্রোতাদের নজর কেড়ে নিয়েছিলেন প্রশান্ত । নেপালি ভাষী এই শিল্পীর দাপট কেবল ভারতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, নেপালেও তাঁর অগণিত অনুরাগী রয়েছে । তাঁর গাওয়া বহু নেপালি গান আজও শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয় । কর্মসূত্রে গত বেশ কিছুদিন ধরে দিল্লিতে বসবাস করছিলেন তিনি । গানের পাশাপাশি অভিনয়েও নজর কেড়েছিলেন প্রশান্ত তামাং । তাঁকে দেখা গিয়েছিল ‘পাতাললোক 2’ ওয়েব সিরিজে । পাতাললোকের পর সলমন খানের ব্যাটেল অফ গালওয়ানেও অভিনয় করেছেন প্রশান্ত তামাং। এমনকী নেপালি চলচ্চিত্র জগতেও নিজের অভিনয়ের স্বাক্ষর রাখেন তিনি। প্রশান্ত অভিনয় করেন ‘গোর্খা পল্টন’, ‘পরদেশী’ এবং ‘পরদেশী 2’-এর মতো সফল সব নেপালি ছবিতে । তাঁর প্রয়াণে ভারত এবং নেপাল দুই দেশেই আজ শোকের আবহ । সূত্রের খবর, অরুণাচল প্রদেশে একটি গানের অনুষ্ঠান করতে গিয়েছিলেন তিনি । সেই অনুষ্ঠান করে তিনি দিল্লিতে ফিরে এসেছিলেন । রবিবার দিল্লির বাড়িতেই আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি । চলচ্চিত্র নির্মাতা রাজেশ ঘটানি প্রশান্তের মৃত্যুর খবরে শিলমোহর দিয়েছেন । পাশাপাশি দার্জিলিংয়ের প্রখ্যাত গায়ক মহেশ সেবা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ফলেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে ।