প্রেমের গল্পে মোড়া একটা অস্বস্তিকর সময়ের দলিল ‘সুলভ কমপ্লেক্স’

প্রেম দিবসের প্রাক্কালে দুই ভিন্ন ধর্মের মানুষের প্রেমের গল্প নিয়ে বড় পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে ‘সুলভ কমপ্লেক্স’। ক্যামেলিয়া প্রোডাকশনস প্রাইভেট লিমিটেড প্রযোজিত এই ছবির পরিচালনায় রয়েছেন শ্রীকান্ত রায় ও অর্ক রায় । গল্প লিখেছেন অর্ক রায় । ‘সুলভ কমপ্লেক্স’ আসলে প্রেমের গল্পে মোড়া একটা অস্বস্তিকর সময়ের দলিল । এক হিন্দু ছেলে ও এক মুসলিম মেয়ের প্রেমের গল্প, যা বর্তমান সমাজের বাস্তব চিত্রকে তুলে ধরবে। ছবির গল্প কোনও ঝলমলে মালটিপ্লেক্স বা সাজানো পার্কে নয়। গল্পের কেন্দ্র শহরের এক সাধারণ হাউজিং কমপ্লেক্স আর তার আশপাশের এলাকা। এই গল্প এক ফতেমার প্রতিমা হয়ে বেঁচে থাকার লড়াইয়ের । মুসলিম বলে কেউ যদি কারওর বাড়িতে রান্নার কাজ না দেয়, তাই নিজের নাম বদলে কাজ টিকিয়ে রাখে ফতেমা । তাকে ঘিরে এলাকাতে নানা রকম ফিসফাস । কেউ তাকে জঙ্গি বলে সন্দেহ করে, কেউ কটূক্তি ছুড়ে দেয়। অথচ ধীরে ধীরে বোঝা যায়, সে আসলে ফতেমা—নীরবে মাথা নিচু করে নিজের মতো করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা এক সাধারণ মেয়ে। এরপর একদিন সকলের সামনে আসে তার আসল পরিচয় । সে আসলে প্রতিমা নয়, ফতেমা । অর্থাৎ তার ধর্ম আলাদা । এই ফতেমার চরিত্রে দেবলীনা কুমার । ফতেমা পরিশ্রমী । দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে সে । কিন্তু অবজ্ঞা আর অপমান তার নিত্যসঙ্গী । নিজের মুসলিম পরিচয় গোপন রাখাই তার বেঁচে থাকার কৌশল । তার এই লুকোচুরিময় জীবনে আসে এলাকারই ছেলে বাপন, সে কাজ করে একটি সুলভ শৌচালয়ে । সে আবিষ্কার করে প্রতিদিন একটি মেয়ে আসে তার সুলভ শৌচালয়ে । পোশাক বদলায় আর তারপর হনহন করে হেঁটে বেরিয়ে যায় ব্যাগ কাঁধে । বাপনের কৌতূহল বাড়ে মেয়েটিকে ঘিরে । আর এখান থেকেই গল্পের শুরু । বাপনের ভূমিকায় রয়েছেন অর্পণ ঘোষাল । সে একদিন ফতেমাকে সাহায্য করতে গিয়ে শোনে তার জীবনের কথা । যে কথায় মিশে আছে শুধুই দারিদ্র‍্য, একাধিক কাজের চাপ, আর দিনের পর দিন দ্বৈত পরিচয়ে বেঁচে থাকার ক্লান্তি । মায়া হয় বাপনের । আর সেই মায়া থেকেই জন্ম নেয় ভালোবাসা, সহজ কথায় ‘হিন্দু-মুসলিমের প্রেম’, যা নিয়ে ‘সেকুলার কান্ট্রি’তে আজও সমস্যা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে । ওদের সম্পর্কে বাধ সাধে বাপনের মা । ওদের প্রেমের অন্যতম বাধা হল ভিন্ন জাত । কারণ সমাজ মেনে নেবে না এই প্রেম । পরিচয় প্রকাশ্যে আসায় কাজ হারায় ফতেমা । ভেঙে পড়ে সেই মেয়ে । তাকে মাথা তুলে দাঁড়াতে শেখায় বাপন । হিন্দু-মুসলমানের প্রেম নিয়ে যখন আপত্তি, তখন কবীর বাপন হতে চায় প্রেমিক বাপন । এরপর একদিন ফুটপাথের পাশে এই প্রেমিকযুগল খুলে বসে একটি ছোট খাবারের দোকান ‘দিল মাঙ্গে বিরিয়ানি’ । এই দোকান শুধু পেট ভরানোর জায়গা নয় । এটা হয়ে ওঠে প্রতিবাদের ভাষা, জাতভেদের বিরুদ্ধে ঠান্ডা প্রতিবাদ সর্বোপরি ভালোবাসার চিহ্ন । বলতে দ্বিধা নেই, বাংলা ফিল্মের এই নতুন জুটিকে দিব্যি মানিয়েছে । দু’জনের চলন বলনেই আছে ছাপোষা মধ্যবিত্তের চিহ্ন, আর এটাই চরিত্রদুটিকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে । 8 ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে ‘সুলভ কমপ্লেক্স’ ।