৯৮তম অস্কারের মঞ্চে ইতিহাস গড়লেন দুই নারী। সমাজের প্রচলিত ধ্যানধারণা ভেঙে বহু আগেই ব়্যাচেল মরিশন, মারিসে আলবার্তে, লরা বেলিংহাম, নতাশা ব্রেইয়ার, চার্লট ব্রুস ক্রিসটেনশন, অ্যাগনেস গোদররা সিনেমায় চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে সিনেদুনিয়ার পুরুষ সিনেম্যাটোগ্রাফারদের টেক্কা দিয়েছেন। সেরকম বলিউডের যেমন বিআর বিজয়লক্ষ্মী, প্রিয়া শেঠ, সবিতা সিংরা রয়েছেন, তেমন টলিউডের মধুরা পালিতও রয়েছেন তালিকায়। এবার মহিলা সিনেম্যাটোগ্রাফার হিসেবে প্রথম অস্কার জয় করে ইতিহাস গড়লেন অটাম ডুরাল্ড আরকাপা। ৯৮তম অ্যাকাডেমি পুরস্কারের মঞ্চে সবথেকে বেশি মনোনয়ন পেয়ে চর্চার শিরোনামে উঠে এসেছিল ‘সিনার্স’। আর সেই সিনেমার জন্যেই সেরা সিনোম্যাটোগ্রাফার হিসেবে অস্কার জিতে নারী চিত্রগ্রাহকদের হয়ে যোগ্য জবাব দিলেন অটাম ডুরাল্ড। এর আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিন নারী। ২০১৮ সালে ‘মাডবাউন্ড’-এর জন্য র্যাচেল মরিসন, ২০২১ সালে ‘দ্য পাওয়ার অফ দ্য ডগ’ ছবির জন্য আরি ওয়েগনার এবং তার পরের বছর ২০২২ সালে ম্যান্ডি ওয়াকার মনোনীত হন ‘এলভিস’-এর জন্যে। কিন্তু এযাবৎকাল কারও ভাগ্যেই অস্কারের শিকে ছেড়েনি! ২০২৬ সাল সেদিক থেকে ইতিহাস গড়ল অটাম ডুরাল্ড আরকাপারের হাতে অ্যাকাডেমি পুরস্কার তুলে দিয়ে। পাশাপাশি দক্ষ ক্যামেরার কাজের জন্য অ্যাকাডেমির মঞ্চে প্রশংসা অর্জন করেছেন ফিলিপিনো এবং আফ্রিকান-আমেরিকান ক্রিওল বংশোদ্ভূত আরকাপা। সংশ্লিষ্ট বিভাগে চলতিবারে অটামের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন অ্যাডলফো ভেলোসো (ট্রেন ড্রিমস), মাইকেল বাউম্যান (ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার) এবং দারিয়াস খন্দজি (মার্টি সুপ্রিম)। তবে পুরুষ প্রতিযোগীদের টেক্কা দিয়ে জয়ের হাসি হাসেন অটাম ডুরাল্ড আরকাপাই। অন্যদিকে ছাব্বিশ সালের অস্কার মঞ্চে প্রথম আইরিশ নায়িকা হিসেবে অস্কার পেয়ে ইতিহাসকে চুম্বন করলেন জেসি বাকলে। ক্লোয়ি ঝাও পরিচালিত ‘হ্যামনেট’ সিনেমার জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার অস্কার মনোনয়ন পান বাকলে। এর আগে ‘দ্য লস্ট ডটার’ ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের জন্য ‘সেরা সহ-অভিনেত্রী’ বিভাগে মনোনীত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেবার তাঁর হাতছাড়া হয় অ্যাকাডেমি পুরস্কার তবে এবার প্রথম থেকেই সিনেবিশেষজ্ঞরা জেসি বাকলেকে নিয়ে আশাবাদী ছিলেন। আর রবিবাসরীয় রাতে সেই ভবিষ্যদ্বাণীই যেন অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেল।