জিতের কন্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান, প্রকাশ্যে ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর রোমহর্ষক টিজার

অবশেষে প্রকাশ্যে বহু প্রতীক্ষিত ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ ছবির টিজার। ছবিতে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের অন্য়তম নায়ক অনন্ত লাল সিংয়ের ভূমিকায় ধরা দেবেন টলিউড সুপারস্টার জিৎ। এই ছবির টিজার এক শক্তিশালী গল্পের ঝলক তুলে ধরে। ঝলকের একেবারে শুরুতেই নেপথ্যকণ্ঠে শোনা গেল আকাশবাণী কলকাতার সতর্কবার্তা। যেখানে শহরে একের পর এক ভয়ঙ্কর ডাকাতির ঘটনার কথা তুলে ধরা হচ্ছে। এরপরই স্ক্রিনে ফুটে উঠল ব্রিটিশ শাসকের নির্মম অত্যাচারের কিছু দৃশ্য। আর সেই অশান্ত আবহেই লাল ছাতা হাতে অবতরণ করলেন বিপ্লবী অনন্ত লাল সিং। যিনি ইংরেজ সরকারের কাছে আতঙ্কের আরেক নাম বললেও অত্যুক্তি হয় না। এরপরই ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান দিয়ে ধুতি পরে ধুন্ধুমার অ্যাকশনে ব্রিটিশ শাসকের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে দেখা গেল ‘অন্তত সিং’ জিৎকে। ১৯৬০-এর দশকের কলকাতাকে পটভূমি করে তৈরি এই ছবিতে দেখা যাবে একের পর এক সুপরিকল্পিত ডাকাতির ঘটনা, যা ক্ষমতাশালীদের লক্ষ্য করে সংঘটিত হয় এবং যা একইসঙ্গে ভয় ও কৌতূহল তৈরি করে। এই ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে অনন্ত-এক রহস্যময়, প্রবীণ চরিত্র, যাকে কেউ দেখে অপরাধী হিসেবে, আবার কেউ ভাবে ত্রাণকর্তা। ইন্সপেক্টর দুর্গা রায় যখন তাকে ধরার জন্য তীব্র অভিযান শুরু করে, তখন জনমত বিভক্ত হয়ে পড়ে ৷ প্রশ্ন ওঠে, অনন্ত কি শুধুই একজন চোর, নাকি পুনর্জন্ম নেওয়া এক বিপ্লবী! টিজারটিতে জিৎকে এক নজরকাড়া নতুন অবতারে দেখা গিয়েছে, যা এমন একটি চরিত্রের ইঙ্গিত দেয় যার অস্তিত্ব ধূসর এবং যে পুরোপুরি নায়ক বা খলনায়ক কোনওটিই নয়। কখনও বিপ্লবী আবার কখনও বা ডাকাত বেশে ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে মারকাটারি অ্যাকশন করতে দেখা গেল অভিনেতাকে। তাঁর শারীরিক এবং আবেগীয় রূপান্তর এই চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এই গল্পে একাধিক স্তর আছে। সময়ের ভিন্ন স্তরের মাধ্যমে ছবিটি অনন্তের অতীতে হানা দেয়। জানা যায় ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় মাস্টারদা সূর্য সেনের অধীনে এক নিষ্ঠাবান স্বাধীনতা সংগ্রামী এই অনন্ত। ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি ও অবিচার মেনে নিতে না পেরে, অনন্ত বেছে নেয় এক চরম পথ ৷ নিজের কৌশল, অভিজ্ঞতা এবং অটল নৈতিকতার জোরে শোষিতদের জন্য শুরু করে এক নতুন লড়াই। চলতি বছরের ২৭ মে মুক্তি পাবে এই সিনেমা ৷