মঞ্চে অরিজিৎ-অনুষ্কা শঙ্করের যুগলবন্দি

সদ্য প্লেব্যাক থেকে অবসর নিয়েছেন। এরই মধ্যেই কলকাতার মঞ্চে ফের শোনা গেল অরিজিৎ সিংয়ের কণ্ঠ! রবিবার অনুষ্কা শঙ্করের কনসার্টে অতিথি শিল্পী হিসেবে হাজির ছিলেন অরিজিৎ। মঞ্চে তাঁর উপস্থিতির কথা আগে কেউ ঘোষণা করেননি । মঞ্চে হঠাৎ করেই হাজির হলেন সঙ্গীত শিল্পী । অনুষ্কা যখন দর্শকদের সামনে জিয়াগঞ্জের ভূমিপুত্রকে আমন্ত্রণ জানান, তখনই গ্যালারি জুড়ে উচ্ছ্বাস । করতালিতে ভরে ওঠে অডিটোরিয়াম । মঞ্চে উঠে খানিকটা ইতস্তত অরিজিৎ । তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে আমি খুব নার্ভাস…আর আমাকে এখানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ ।”

অনুষ্কা শঙ্কর ও তবলাবাদক বিক্রম ঘোষের সঙ্গে অরিজিৎ পরিবেশন করেন ‘মায়া ভরা রাতি’। লক্ষ্মী শঙ্করের গাওয়া এই বাংলা গান, প্রয়াত সেতার-সম্রাট পণ্ডিত রবি শঙ্করের সুরে বাঁধা আর সেই সুরে অরিজিতের কণ্ঠ যেন নতুন করে প্রাণ পেয়ে ওঠে। গান শেষ হতেই দর্শকাসনে ছড়িয়ে পড়ে আবেগের ঢেউ। শুধু মঞ্চেই নয়, গান শেষে অরিজিৎ আরও জানান, অনুষ্কার বাড়িতে গিয়ে দু’জনে একসঙ্গে নতুন একটি গানও কম্পোজ করেছেন। শিল্পীর এই মন্তব্য থেকেই ইঙ্গিত স্পষ্ট -প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ালেও সঙ্গীত থেকে তিনি কোনওভাবেই দূরে নন। রবিবার সন্ধ্যেয় এক অদ্ভুত মনমুগ্ধকর মুহূর্তের সাক্ষী রইল তিলোত্তমা। একইমঞ্চে কিংবদন্তি সেতারবাদক পণ্ডিত রবি শঙ্করের কন্যা অনুষ্কা শঙ্কর, অরিজিৎ সিং ও তবলা বাদক বিক্রম ঘোষ। সুরের সাগরে ডুব দিলেন অনুরাগীরা। এদিন মঞ্চে উঠেই নেতাজি ইন্ডোরে তাঁর শেষ অনুষ্ঠানের স্মৃতিচারণা করলেন অনুষ্কা শঙ্কর। বলেন, “আমি এই মঞ্চেই অনুষ্ঠান করেছি ১৪ বছর বয়সে। ৩০ বছর পর আবার সেখানেই ফিরে এলাম। অনেক কিছু মনে পড়ে যাচ্ছে।” তাঁর প্রতিটা শব্দ যেন দর্শকাসনে থাকা প্রত্যেককে ফিরিয়ে নিয়ে গেল অতীতে। প্লে ব্যাক থেকে অবসর নেওয়ার পর এই প্রথম তিনি মঞ্চে। এদিন বিক্রম ঘোষের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে, কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন অরিজিৎ। নিজের ছবির গানের একটা অংশ দিয়ে ভক্তদের মাতিয়ে দিলেন তিনি। অনুষ্কা-অরিজিতের যুগলবন্দিতে আচ্ছন্ন অনুরাগীরা।