রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুই বোন’ উপন্যাস অবলম্বনে পরিচালক শুভ্রজিৎ মিত্র নিয়ে আসছেন তাঁর নতুন বাংলা ছবি ৷ যার নাম ‘মায়ামৃগয়া’। এই কাহিনি দুই বোন-শর্মিলা ও ঊর্মিমালা এবং তাদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক পুরুষ, শশাঙ্কের, পারস্পরিক জড়িয়ে থাকা ভাগ্যরেখাকে অনুসরণ করে; যেখানে ব্যক্তিগত আবেগের সঙ্গে সমান্তরালে প্রবাহিত হয় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক রূপান্তর । এই আখ্যান একদিকে অন্তরঙ্গ, অন্যদিকে মহাকাব্যিক – প্রেম, কর্তব্য, কামনা ও আত্মত্যাগের এক ‘বিভ্রমময় নৃত্যনাট্য’, যার পর্যবেক্ষক ও অনিয়মিত ভাষ্যকার স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । একদিকে লালনকারী ‘মা’ শর্মিলা, অন্যদিকে চঞ্চল ও মোহময়ী ‘প্রেয়সী’ ঊর্মিমালা । ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনের পটভূমিতে প্রতিফলিত হয় ঔপনিবেশিক ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও তৎকালীন সাম্প্রদায়িক হিংসার রক্তাক্ত বাস্তবতা । চরিত্ররা বারবার মুখোমুখি হয় ভাগ্য, ত্যাগ এবং আবেগপ্রসূত সিদ্ধান্তের অনিবার্য পরিণতির । শর্মিলা বড় বোন । সে মাতৃরূপের প্রতীক । পরম সেবাপরায়ণ, ঐতিহ্যনিষ্ঠ, স্বামী ও বোনের প্রতি গভীর রক্ষণশীল ভালোবাসায় আবদ্ধ । ঊর্মিমালা ছোট বোন-‘প্রেয়সী’র প্রতিরূপ । চঞ্চল, রহস্যময় । সে প্রথমে নিরোদের সঙ্গে বাগদত্তা, পরবর্তীতে শশাঙ্কের সঙ্গে আবেগগতভাবে জড়িয়ে পড়ে । শশাঙ্ক হল শর্মিলার স্বামী । সে একজন ব্যবসায়ী-পেশাগত চাপ ও ঊর্মিমালার প্রতি জন্ম নেওয়া অনুভূতির দ্বন্দ্বে বিধ্বস্ত সে । নীরোদ গম্ভীর, বিজ্ঞানমনস্ক চিকিৎসাবিদ্যার ছাত্র । ঊর্মিমালার বাগদত্তা সে । কিন্তু ইউরোপে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্তে বাগদান ভেঙে দেয় নীরোদ । রাজরাম বাবু দুই বোনের পিতা । একজন প্রথাগত জমিদার । পুত্রশোকে বিপর্যস্ত হয়ে হিমালয়ে আশ্রয় নেন এবং রবীন্দ্রনাথের শরণাপন্ন হন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখানে চরিত্র ও ভাষ্যকার রূপে উপস্থিত । কাহিনির দার্শনিক ব্যাখ্যা ও সমসাময়িক ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন । এই ছবির রিসার্চ, সংলাপ, চিত্রনাট্য, প্রোডাকশন ডিজাইন এবং পরিচালনা সবই শুভ্রজিতের । এমনকী প্রযোজনাও তাঁর নিজেরই । ‘শুভ্রজিৎ মিত্র মোশন পিকচার্স প্রাইভেট লিমিটেড’-এর ঘর থেকেই আসবে এই ‘সাদা কালো’ ছবি । শিল্প নির্দেশনা এবং প্রোডাকশন ডিজাইনে (দ্বৈত) আনন্দ আঢ্য । লুক ডিজাইন এবং মেক আপে সোমনাথ কুণ্ডু । এই ছবিতে বিভিন্ন চরিত্রে কারা থাকছেন তা ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ্যে আনবেন বলেই জানান পরিচালক।