প্রবীণ চলচ্চিত্র নির্মাতা এম এম বেগের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য বলিপাড়ায়। নিজস্ব বাসভবন থেকে উদ্ধার বেগের পচা-গলা দেহ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল সত্তরের কোঠায়। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অসুস্থতায় ভুগছিলেন এবং নিভৃত জীবনযাপন করছিলেন। প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা যায়, টানা চার-পাঁচ দিন ধরে এম এম বেগকে বাড়ির বাইরে দেখা যায়নি। বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করলে তাঁরা সন্দেহবশত পুলিশে খবর দেন। পুলিশ দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করে। এরপর তাঁর কন্যাকে বিষয়টি জানানো হয়। গভীর রাতে, প্রায় ১টা ৩০ থেকে ২টার মধ্যে তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুম্বইয়ের কুপার হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই মর্মান্তিক খবরটি জানান তাঁর প্রচারক হানিফ জাভেরি। তিনি বলেন, “বেগ সাহেব অত্যন্ত স্নেহশীল এবং ভদ্র মানুষ ছিলেন। ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর অবদান অনেক। আমি তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।” চলচ্চিত্রজীবনে এম এম বেগ, কাজ শুরু করেছিলেন সহকারী পরিচালক হিসেবে। তিনি জে ওম প্রকাশ, বিমল কুমার ও রাকেশ রোশনের মতো বরেণ্য পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেন। গোবিন্দা অভিনীত ‘আদমি খিলোনা হ্যায়’, ‘জৈসি কর্নি বৈসি ভরনি’, অনিল কাপুরের ‘কার্জ চুকানা হ্যায়’, ‘কালা বাজার’ এবং ‘কিষাণ কানহাইয়া’- এই সব ছবিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে স্বাধীন পরিচালক হিসেবেও, আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। নাসিরুদ্দিন শাহ অভিনীত ‘মাসুম গাওয়াহ’ (১৯৯০) পরিচালনা করলেও ছবিটি মুক্তি পায়নি। ১৯৯৪ সালে শিল্পা শিরোদকর অভিনীত ‘ছোটি বাহু’ পরিচালনা করেন তিনি। রাকেশ রোশনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত আন্তরিক। জানা যায়, হৃতিক রোশনের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ডিকশন, ভয়েস মডুলেশন এবং সংলাপ বলার অনুশীলনে বেগ সাহেব বিশেষভাবে সাহায্য করেছিলেন। “হৃতিকের প্রথম ছবি ‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’-এর আগেই তিনি তাকে সংলাপ উচ্চারণে সাহায্য করতেন,” জানান ঘনিষ্ঠ মহল।