শনিবার রাতে লগ্নজিতা চক্রবর্তী সঙ্গীতানুষ্ঠান ছিল পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরে। সেখানকার একটি বেসরকারি স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানে। বেশ কিছুক্ষণ গান গাওয়ার পর সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দেবী চৌধুরানি’ ছবির ‘জাগো মা’ গানটি ধরতেই ঘটে বিপত্তি। অভিযোগ, গানটি গাওয়ার সময় লগ্নজিতাকে হেনস্তার শিকার হতে হয়। রাতেই ভগবানপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শিল্পী। পুলিশ শুরুতে জেনারেল ডায়েরি করলেও ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে পরবর্তীতে এফআইআর করে। রবিবার দুপুরে ওই বেসরকারি স্কুলের মালিক তথা অভিযুক্ত মেহেবুব মল্লিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতের বাবা করিম মল্লিক ভগবানপুর ১ নং পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের প্রাক্তন সহ সভাপতি। পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার মিতুনকুমার দে বলেন, ‘অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ত্রুটি থাকলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ভগবানপুরে মেহেবুব ও তাঁর দুই ভাইয়ের একটি প্রাইভেট স্কুল রয়েছে। ধৃত মেহেবুব ওই স্কুল কমিটির সম্পাদকও। শনিবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ অনুষ্ঠান শুরু হয়। কনকনে ঠান্ডার মধ্যেও বেশ ভিড় হয়েছিল। অভিযোগ, শিল্পী ‘জাগো মা’ গানটি শুরু করতেই ক্রুদ্ধ হয়ে মঞ্চে উঠে পড়েন মেহেবুব। অবিলম্বে গান বন্ধ করতে শিল্পীকে কার্যত ফতোয়া দেন। এক ধমকে থামিয়েও দেন গান। শিল্পীকে চড় মারতে উদ্যত হন। ভ্যাবাচাকা খেয়ে যান লগ্নজিতা। বেগতিক বুঝে কমিটির চার-পাঁচজন মেহেবুবকে ধরে নীচে নিয়ে যান। এরপর মঞ্চে দাঁড়িয়েই লগ্নজিতা জানান, এই পরিস্থিতিতে গান গাওয়া সম্ভব নয়। সোজা তিনি চলে যান ভগবানপুর থানায়। সেখানে জেনারেল ডায়েরি করেন। ঘটনা নিয়ে এলাকায় শোরগোল পড়ে গেলে গা-ঢাকা দেন মেহেবুব। তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতারের জন্য ভগবানপুর থানার ওসি শাহেনশা হককে নির্দেশ পাঠান এসপি। রবিবার বেলা ১২টা নাগাদ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় যথারীতি শিল্পী ও সাংস্কৃতিক মহলে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। লগ্নজিতা বলেন, ‘পুলিশের উপর পূর্ণ আস্থা আছে। গান কারও ভালো না লাগলে তিনি দর্শকাসন থেকে বলতেই পারেন। কিন্তু শিল্পীকে মারতে যাওয়ার ঘটনা সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না।’ বিজেপির রাজ্য মুখপাত্র শঙ্কুদেব পণ্ডা বলেন, ‘ওই গানে যাঁদের আপত্তি, তাঁরা কেমন স্কুল চালাচ্ছেন? শিক্ষাদপ্তর কীভাবে এরকম স্কুলের অনুমোদন দেয়?’ ভগবানপুর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা অরূপসুন্দর পণ্ডা বলেন, ‘মেহেবুব মল্লিকরা ব্যবসায়ী। আমাদের দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁর বাবা এক সময় পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি ছিলেন।’