কেওড়াতলা মহাশশ্মানে রাহুলের শেষকৃত্য সম্পন্ন

রবিবার শুটিং করতে গিয়ে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক প্রয়াণ এখনও বিশ্বাস করে উঠতে পারছে না তাঁর কাছের বন্ধু-সহকর্মীরা।  সোমবার সকালে অভিনেতার দেহের ময়না তদন্ত হয়। সকালেই তমলুক পৌঁছে যান সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ, পরিচালক সৌরভ পালোধী ও জয়রাজ ভট্টাচার্যেরা। এ দিকে, অভিনেতার বাড়িতে সকাল থেকে ভিড়। একেবারে সাতসকালে অভিনেতার বাড়িতে যান প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সকালে লোকজন ভিড় হওয়ার আগে অভিনেতার ফ্ল্যাটে পৌঁছে যান প্রিয়াঙ্কা, সঙ্গে পুত্র সহজ। এর পর বেলা যত বাড়তে থাকে, বাড়ির সামনে ভিড় বাড়তে থাকে। সোমবার বেলা গড়াতেই দীঘা থেকে রাহুলের দেহ হোয়াইট করিডোরে এসে পৌঁছায় তাঁর পাড়ায়। কান্নায় ভাসলেন রাহুলের প্রতিবেশী থেকে তাঁর সহকর্মীরা। কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, পদ্মনাভ দাশগুপ্ত, দিগন্ত বাগচী, বাদশা মৈত্র, জ্যাক (দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য), রাহুল চক্রবর্তী, চন্দন সেন, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, ঊষসী চক্রবর্তী, আবির, পারমিতা মুন্সি , ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস থেকে শুরু করে মহম্মদ সেলিম, রবীন দেব, কৌস্তভ চট্টোপাধ্যায় সকলে আজ উপস্থিত হন অভিনেতা রাহুলকে শেষ বিদায় জানাতে । রাহুলকে শেষ দেখা দেখতে বিজয়গড়ের বাড়ির নীচে জনসমুদ্র। উপচে পড়া ভিড় সামলাতে চারিদিকে ব্যারিকেড করে রাখা হয়। ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকে কলকাতা পুলিশ। রাহুলের নিথর দেহ দেখে নিজেকে সামলাতে পারেন না চিত্রনাট্যকার পদ্মনাভ দাশগুপ্ত, সাহেব চট্টোপাধ্যায়, জয়জিৎ। কান্নায় ভেঙে পড়েন সকলেই । এরপর একে একে আসেন ইশা সাহা, সস্ত্রীক শ্রীজাত, সঙ্গীতশিল্পী রূপম ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন রূপমের স্ত্রী রূপসাও। সহ-অভিনেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর বাড়িতে আসেন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। ‘ঠাকুমার ঝুলি’ ওয়েব সিরিজ়ে রাহুলের সঙ্গে কাজ করেছিলেন অভিনেত্রী। কিছুক্ষণ বাড়িতেই শায়িত ছিলেন প্রয়াত রাহুল। বিকেলে সহকর্মী, অনুরাগীদের সহযোগিতায় কেওড়াতলা শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয় শবদেহ। সন্ধে সাড়ে ৬টার মধ্যে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। বেলা ৪টে অভিনেতার বিজয়গড়ের ফ্ল্যাট ছেড়ে শববাহী গাড়ি রাহুলকে নিয়ে এগিয়ে যায় শ্মশানের পথে। শেষযাত্রায় ছিলেন ঊষসী চক্রবর্তী, দীপ্সিতা ধর-সহ অনেক বাম নেতা-সমর্থকেরা। তত ক্ষণে ছেলে সহজকে নিয়ে অভিনেত্রী তথা সাংসদ সায়নী ঘোষের গাড়িতে চেপে রওনা দেন প্রিয়াঙ্কা সরকার। বিকেল ৫টায় অভিনেতাকে নিয়ে যাওয়া হয় শ্মশানের ভিতরে। তত ক্ষণে কেওড়াতলায় হাজির প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়, অঙ্কুশ হাজরা, সায়নী ঘোষেরা। শ্মশানের গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে অভিনেতার স্কুলের বন্ধুরা তখন তাঁদের কাছে রাহুল শুধু ‘অরুণ’। চার পাশে মানুষের ভিড়, লোকজনের ছবি তোলার হিড়িকে খানিকটা উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি। শেষ বারের মতো ছোটবেলার বন্ধু ‘অরুণ’কে দেখতে চেয়ে মেজাজ হারান বন্ধুরা। সন্ধে সাড়ে ৬টা নাগাদ সম্পন্ন হয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। বাবার দাহকাজ সারে ১৩ বছরের ছেলে সহজ। এর পরেই ছেলে সহজকে নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দেন প্রিয়াঙ্কা। রবিবার আচমকাই আসে রাহুলের মৃত্যুর খবর। তালসারিতে ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়েছিলেন রাহুল। সেখানেই ঘটে দুর্ঘটনা। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে রাহুলের। হাসপাতালে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয়। অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে উত্তাল টলিপাড়া৷ কোনওভাবেই এই মৃত্যু মানতে পারছেন না কেউ৷ তবে তমলুক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী জলে ডুবেই অভিনেতার মৃত্যু হয়েছে। তাঁর ফুসফুসে অস্বাভাবিক পরিমাণে বালি এবং নোনা জল পাওয়া গেছে। এছাড়াও খাদ্যনালি, শ্বাসনালি ও পাকস্থলীতেও বালি ঢুকে গিয়েছিল বলে জানা গেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, তাঁর ফুসফুস ফুলে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকদের মতে, অল্প সময় নয়, বরং দীর্ঘ সময় জলের নিচে থাকলে এমনটা ঘটে। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিনেতা অন্তত এক ঘণ্টা জলের নিচে ছিলেন। টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতার অকাল প্রয়াণে ভেঙে পড়েছে তার পরিবার-কলাকুশলী, ফ্যানেরা। কোনওভাবেই যেন খবরটা বিশ্বাস হচ্ছে না ৷ মায়েরা হাত ধরে শ্মশানে আসে রাহুলের ১৩ বছরের ছেলে সহজ৷ এত ছোট বয়সে বাবাকে হারিয়ে এমন একটা দিনের সম্মুখীন হতে হবে, তা হয়তো কল্পনারও অতীত ছিল৷ সূত্রের খবর, প্রয়াত অভিনেতা রাহুলের ছোট্ট ছেলে সহজই বাবার মুখাগ্নি করে৷