মুক্তির অপেক্ষায় মর্দানি-৩, তার আগেই বিতর্কে রানি

এই মুহূর্তে অভিনেত্রী ‘মর্দানি ৩’-এর মুক্তির জন্য অপেক্ষা করছেন। এটি রানি অভিনীত পুলিশ অফিসার(শিবানী শিবাজি রায়)-এর জীবনকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে ৷ আয়ুষ গুপ্তের লেখা, অভিমন্যু মিনওয়ালার পরিচালিত এবং আদিত্য চোপড়ার প্রযোজিত ‘মর্দানি’ ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় কিস্তি মুক্তি পাবে ৩০ জানুয়ারি ৷ নারী প্রধান সিনেমার ক্ষেত্রে রানি মুখোপাধ্যায়ের অবদান উল্লেখযোগ্য মারদানি হোক হিচকি,সাফল্যের সিঁড়িতে অনায়াসে পা রাখতে পেরেছেন তিনি ৷ এত সবকিছুর পরেও রানির একটা কথায় খেপেছে নেটপাড়ায় একাংশ ৷ ‘মর্দানি ৩’ মুক্তির পথে ৷ তার মাঝে রানির বিশেষ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সমালোচনা সোশাল মিডিয়ায় ৷ সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী রানি মুখোপাধ্যায় পারিবারিক সম্পর্ক এবং লিঙ্গ ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্তব্য করেছেন যে, স্ত্রীদের তাদের স্বামীদের সঙ্গে কথা বলার সময় উচ্চস্বরে কথা বলা উচিত। এই মন্তব্যের পর থেকে অনলাইনে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে ৷ সম্পর্কের মধ্যে চিৎকার করার মতো স্বভাবকে প্রভাবিত করার জন্য অভিনেত্রীর সমালোচনা করেছেন নেটিজেনরা। এক সাক্ষাৎকারে রানি বাড়িতে লিঙ্গীয় সম্পর্কের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন। কীভাবে একজন ছেলের আচরণ তার বাবা মায়ের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করেন তার দ্বারা প্রভাবিত হয়, সে সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে রানি বলেন, “আমি মনে করি সম্মান বাড়িতেই শুরু হয়। খুব সহজেই, যখন একজন ছেলে তার মাকে দুর্ব্যবহারের শিকার হতে দেখে, তখন সে ভাবতে শুরু করে যে, যদি আমার মায়ের সঙ্গে এমন ব্যবহার করা যায়, তবে অন্য যেকোনও মেয়ের সঙ্গেও একই রকম ব্যবহার করা যেতে পারে।” তিনি এরপর বলেন, “আমি মনে করি, বাবারা বাড়িতে তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করেন, সে বিষয়ে তাদের দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ৷ কারণ একটি ছেলে বড় হয়ে সেটাই দেখে-শেখে। যদি তার মায়ের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা হয়, যদি তাকে সম্মান দেওয়া হয়, তবে ছেলেরা বুঝতে পারবে যে সমাজে নারীদের সেই সম্মান এবং মর্যাদা দেওয়া উচিত।” রানির কথায়, “সুতরাং সবকিছুর শুরু হয় বাড়ি থেকেই। বাবার মায়ের ওপর সামান্য উঁচু গলায় কথা বলাও উচিত নয়। জানেন তো, মায়েরই বাবার ওপর উঁচু গলায় কথা বলা উচিত, এমনই হওয়া উচিত।” রানি তার স্কুলজীবনের একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে জানান যে তিনি একবার এক ছেলেকে চড় মেরেছিলেন, এরপর মজা করে তার স্বামী তথা পরিচালক-প্রযোজক আদিত্য চোপড়ার প্রসঙ্গ তোলেন। রানি বলেন, “আমি শুধু একজন ছেলেকেই চড় মেরেছিলাম ৷ আর বাকি ছেলেরা আমার বন্ধু ছিল। আর আমার স্বামীকে গিয়ে জিজ্ঞেস করবেন না যে বাড়িতে প্রতিদিন তার সঙ্গে কী হয়।”

নেটপাড়ায় সমালোচনা

তবে, রানির এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে একাংশের ভালো লাগেনি। অনেকেই রেডিট এবং ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে তাদের অসম্মতি প্রকাশ করে তার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একজন লেখেন, “আমার মনে হয় রানি মজা করার চেষ্টা করেছেন ৷ কিন্তু তিনি বুঝতে পারেননি যে বিষয়টা মোটেও মজার নয় ৷” আরেক নেটিজেন লেখেন, “এটা কেমন আচরণ? আমি সত্যি বুঝতে পারি না কেন কেউ তাকে কখনও কিছু বলে না। শুধু পুরোনোও প্রজন্মের বলে তার মানে এই নয় যে সে যা খুশি তাই বলতে পারে ৷” কারোর কথায়, “কেন কেউ কারোর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবে? আমরা কি শুধু শান্তি এবং ভদ্রভাবে কথা বলতে পারি না?” আরেকজন লিখেছেন, “সম্পর্কের মধ্যে চিৎকার করাকে স্বাভাবিক করে তোলা, বিবেচ্য নয় ৷ এটা মেনে নেওয়ার মতো কোনও বিষয় নয়।”