লাইভে ‘শেষ কথা’! চরম সিদ্ধান্ত গায়িকা দেবলীনার, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

সংগীতশিল্পী দেবলীনা নন্দীর জন্য এখন প্রার্থনা করছে গোটা নেটপাড়া। জীবনের খুঁটিনাটি সব কিছুই তিনি তুলে ধরেন সোশ্যাল মিডিয়ার পর্দায়। বন্ধুদের সঙ্গে, পরিবারের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত ভাগ করে নেন প্রতিমুহূর্তে। ২০২৪ সালে সাত পাকে বাঁধা পড়েছিলেন কর্মসূত্রে একজন পাইলটের সঙ্গে। কিন্তু আচমকাই ছন্দপতন। নিজেকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেন গায়িকা দেবলীনা নন্দী ৷ এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৷ সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় ‘শেষ কথা’ ক্যাপশন দিয়ে একটি লাইভ করেন দেবলীনা। লাইভে তিনি জানান, কাজের জায়গা থেকে পরিবার, সব জায়গাতেই তিনি সমস্যায় জর্জরিত ৷ তিনি জানান,বিয়ের পর থেকেই তাঁর পেশা নিয়ে, তাঁর মাকে নিয়ে সমস্যা শুরু হয়েছে। তাঁকে বারবার শুনতে হয়েছে, মা-কে ছেড়ে দিতে হবে ৷ লাইভে দেবলীনা জানান, “আমি অনেক চেষ্টা করলাম, কিন্তু আর পারলাম না। আমার মাকে তাদের পোষায় না বলে আমি মাকে ছেড়ে দেব ! আমার মাকে দেখতে সুন্দর নয় ৷ শিক্ষিত নয়, মুখের ওপর স্পষ্ট কথা বলে দেয় ৷ বিয়ের পর ছেলেদের তো এমন নিয়ম মানতে হয় না, যে মা-কে ছেড়ে দিতে হবে ৷ তাহলে মেয়েদের ক্ষেত্রে কেন হবে ?…” এরপর দেবলীনা বলেন, “আমি আমার জীবনের সেরা মুহূর্তগুলো ভ্লগের মাধ্যমে শেয়ার করি। কিন্তু আমার জীবনে কী ঝামেলা হচ্ছে তা শেয়ার করি না। আমারও কোথাও গিয়ে মনে হয় আমি পজিটিভিটি শেয়ার করব। বিয়ের আগে বলো বা পরে অনেক ট্র্যাজেডি হয়েছে। ভেবেছিলাম সব ব্যালেন্স করব। কিন্তু মাকে ছাড়া আমার পক্ষে সম্ভব না। নিজে ছেঁড়া শাড়ি পরে আমার জন্য জামা নিয়ে আসত মা। আমার মতে মা আমার শো-তে না গেলে আমার শো ভাল হবে না। সেই মাকে কী করে ছেড়ে দেব! আমি আর পারছি না। মনে হচ্ছে লিমিটটা ক্রস করে যাব। সবকিছুরই শেষ আছে। বাই এনি চান্স যদি ডিটেল লাগে আমার কিছু বন্ধুরা সব জানে। যদি তারা মুখ খুলতে চায়, বলতেই পারে। প্রচুর গান আমার অ্যাভেলেবল আছে। সবাই শুনো। শেষে একটা কথাই বলতে চাই, আমি ভাল নেই। আমি সারাক্ষণ নাটক করি আমি ভাল আছি।” এই লাইভের পরেই জানা যায়, চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন দেবলীনা ৷ বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৷ তাঁর স্বাস্থ্য সম্পর্কে অভিনেতা সায়ক লাইভে জানান, ভালো আছেন দেবলীনা ৷ তিনি বলেন, “আমার একদম মনে হয় না, নিজের জীবনের থেকে ঊর্দ্ধে ভালোবাসা বা সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া উচিত ৷ আগে তো নিজেকে ভালোবাসবে, নিজেকে ভালো রাখবে ৷ তারপর তো তুমি অন্যকে ভালো রাখবে ৷ নিজেকে শেষ করে দেওয়া, এটা কোনও সমস্যার সমাধান নয় ৷ জীবন যখন আছে লড়াই করতে হবে সমস্ত পরিস্থিতির সঙ্গে ৷ ও এতদিন তাই করে এসেছে ৷ আমরা জাজ করে থাকি ৷ কিন্তু বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব নয় ৷ এইগুলো যে ফেস করে, সেই একমাত্র বুঝতে পারে ৷” সায়কের কথায়, “বৈবাহিক সম্পর্কে যখন এমন কোনও সমস্যা হতে থাকে এক বছর ধরে, একদম দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে হয়তো এমন সিদ্ধান্ত নেয় ৷ আমি ওকে অনেকবার বলেছি, সমস্যা হচ্ছে যখন সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আয় ৷ জোর করে কোনও কিছু ঠিক করা যায় না ৷” দেবলীনার স্বাস্থ্য নিয়ে সায়ক জানান, “আমি দেখতে গিয়েছিলাম ওকে ৷ ভালো আছে এখন ৷ যে জিনিসটা ও করেছিল, সেখান থেকে চিকিৎসকরা ওকে বের করে আনতে পেরেছে ৷ বিপদমুক্ত ৷ ভালো আছে ৷ ওর লাইভ দেখলে সব বুঝে যাবে, কী সমস্যা, কেন সমস্যা ৷ বাবা-মাকে জীবন থেকে বাদ দেওয়া যায় না ৷ বিয়ের আগে থেকেই এটা নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল ৷ আমি বারণ করেছিলাম ৷ অবসাদ থেকে ও যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেখান থেকে আমাদের ফিরিয়ে আনা উচিত ৷ ওর প্রপার কাউন্সিলিং দরকার বলে আমার মনে হয় ৷ ওর জন্য যারা চিন্তিত, তাদের বলতে চাই ভালো আছে দেবলীনা ৷ এটা ওর জীবনের দ্বিতীয় সুযোগ ৷ আমরা সকলেই ওকে ভালোবাসি, প্রার্থনা করি যাতে ও তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যায় ৷”