দেবদেবীর সাজে রাজকীয় বিয়ে সারলেন ‘বিরোশ’

চারহাত এক হল বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রশ্মিকা মন্দানার। উদয়পুরে রাজকীয় বিয়ে সারলেন ‘বিরোশ’। দক্ষিণ ভারতের দুই রজ্যের রীতি মেনে গাঁটছড়া বাঁধার কথা ছিল তারকাজুটির। তেমনটাই হল। ২৬ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার, উদয়পুরে সাতপাক ঘুরলেন বিজয়-রশ্মিকা। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই তেলুগু নিয়মে বিয়ে সেরেছেন তাঁরা। অর্থাৎ বিজয়ের পরিবারের নিয়মানুসারে বিয়ের পর্ব সারা হয়েছে। এবারা পালা রশ্মিকার পরিবনারের অর্থাৎ কর্নাটকের কোডাভা নিয়মানুসারে বিয়ে হওয়ার। সেই রীতি মেনে বিয়ে হবে এদিনই বিকেল ৪টে নাগাদ, সূর্যাস্তের সময়। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা নাগাদ বিয়েতে বসেছিলেন ‘বিরোশ’। তাঁদের বিয়েতে আদ্যোপান্ত রয়েছে খাঁটি দক্ষিণী ছোঁয়া। মেনু থেকে সাজপোশাক সবেতেই নিজেদের শিকড় আঁকড়ে অনুষ্ঠানে মেতেছে দুই পরিবার। ইতিমধ্যেই বিয়ের আসর থেকে প্রাকবিবাহের নানা ছবি ভাইরাল হয়েছে। বিজয়-রশ্মিকার বিয়েতে ছিল ব্যতিক্রমী ছোঁয়া। বিশেষত বিজয়ের হাত ও পায়ের আলতা নিয়ে চলছে জোর চর্চা। রশ্মিকার পরনে সিঁদুরে লাল রঙের শাড়ি। সঙ্গে গয়নাগাটি। সরু সোনালি পাড়। পাড়ের উপরের দিকে সোনালি জরির নকশা। সঙ্গে বিডসের কাজের ছোট হাতার ব্লাউজ। নবদম্পতির সাজের মূল ইউএসপি যেন গয়নাগাটি। রশ্মিকার গলায় কাসু মালা। গলা থেকে নাভি পর্যন্ত ললন্তিকার স্টাইলে এই হার দক্ষিণী ঐতিহ্যকে বহন করে। হারটির প্রতি ধাপে লকেটে রয়েছে বিশেষত্ব। হারটি সবচেয়ে বড় লকেটে রয়েছেন দেবী লক্ষ্মী। ছোট তিনটি লকেট কল্কার কাজ। একেবারে গলায় লকেট চাকার মতো। ছোট ও বড় মটরদানার মিশেলে গলার হার এককথায় নজরকাড়া। কানের দুলেও রয়েছে ঐতিহ্যের ছোঁয়া। খোঁপায় ফুল দেননি। সেখানেও বিশেষ গয়নায় সেজেছেন অভিনেত্রী। মাথায় টায়রা ও টিকলি। কোমরে মানানসই কোমরবন্ধ। পরেছিলেন বাজুবন্ধও। তবে তাঁর হাতে, পায়ে আলতা দেখা যায়নি। বিজয়ের সাজও ছিল নজরকাড়া সারা শরীরে গয়না। যেন দেবদেবীর মতো সেজেছিলেন দু’জনে। উল্লেখ্য, তারকা যুগলের বিয়ের মেনুতে থাকবে খাঁটি দক্ষিণী খাবারের আয়োজন। ওয়েলকাম ড্রিংকে থাকছে নারকেল জল। ভূরিভোজ হবে কলাপাতায়। থাকবে তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্নাটকের নানা সুস্বাদু খাবার। থাকছে হায়দরাবাদি দম বিরিয়ানি, মুরগির মাংসের বিশেষ পদ নাটু কোডি পুলুস, গারেলু বা মেডু বড়া, পাপ্পু যা মূলত দক্ষিণ ভারতীয় স্বাদের এক ধরণের ডাল এবং অবশ্যই কিমা সামোসা। এখানেই শেষ নয়, রশ্মিকা যেহেতু কর্নাটকের মেয়ে তাই কুর্গ অর্থাৎ কোডাগু ছোঁয়ায় কদম্বুটু ও পান্ডি কারি ও শেষ পাতে মাইশোর পাকের মতো মিষ্টি। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিয়ের অনুষ্ঠানের তিন দিন আগেই উদয়পুরে পৌঁছেছেন জুটি। গায়ে হলুদ থেকে সঙ্গীত ও মেহেন্দি সেরেছেন তাঁরা সেখানেই। এখানেই শেষ নয়, বিজয়ের জন্য নিজের ছবি ‘পুষ্পা’র জনপ্রিয় গান ‘আঙ্গারো’-এ পারফর্মও করেছেন রশ্মিকা। ১০০ অতিথি নিমন্ত্রিত এদিন বিজয়-রশ্মিকার বিয়ের অনুষ্ঠানে। উদয়পুরের পাঁচতাঁরা হোটেলে অতিথি ও পরিবারের সকলের থাকার ব্যবস্থার জন্য নেওয়া হয়েছে ১১৭টি ঘর। শোনা যাচ্ছে, যার প্রতি রাতের ভাড়া নাকি ২০০০০ থেকে ৭০০০০ টাকা। বিয়ে শেষে ৪ মার্চ হায়দরাবাদে তারকাখচিত রিসেপশনের আয়োজন করেছেন তাঁরা। তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠানে বিশেষ আমন্ত্রিত ছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারকাযুগলকে বিয়ের আগে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।