প্লেব্যাক নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত শ্রেয়ার, কনসার্টে শিল্পীদের বদভ্যাস নিয়ে মুখ খুললেন গায়িকা

কিছুদিন আগেই প্লে-ব্যাক থেকে অবসর ঘোষণা করেছেন অরিজিত সিং। এবার প্লে-ব্যাক করা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন শ্রেয়া ঘোষাল। শ্রেয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘চিকনি চামেলি’র মতো চটুল লিরিকসের গান আর তিনি গাইবেন না। গায়িকার এহেন সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক-সমালোচনারও অন্ত নেই! তবে এবার ফিল্মি দুনিয়ার ‘রাউঞ্চি’ গানকে আলবিদা জানালেন গায়িকা। গত বছর এক সাক্ষাৎকারে শ্রেয়া দাবি করেন, কিছু কিছু গানে নারীদের ভোগ্যপণ্য হিসাবে তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, অনেক সময় ছোটরা না বুঝে কিছু গান গায়। ওই গানগুলির শব্দচয়ন শুনলে তাঁর অস্বস্তি লাগে। অবশ্য এমন ধরনের গানও শ্রেয়াকে নানা কনসার্টে গাইতে শোনা যায় বলেই রেডিট ব্যবহারকারী অনেকের দাবি। কেউ কেউ শ্রেয়ার বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তোলেন। লাগাতার কটাক্ষের শিকার হন শিল্পী। সম্প্রতি রাজ শামানির পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সমালোচনার জবাব দেন শ্রেয়া। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। বলেন, ‘চিকনি চামেলি’র মতো গান আর ভুলেও তিনি রেকর্ড করবেন না। তাঁর দাবি, এই গান গেয়েছেন ভাবলেই লজ্জা হয়। গান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আরও সচেতনতা জরুরি বলেও দাবি শ্রেয়ার। আত্মপক্ষ সমর্থনে শ্রেয়া আরও বলেন, ‘চিকনি চামেলি’ গানটির নাকি গভীর অর্থ পুরোপুরি বুঝতে পারেননি। সেই সময় তাঁর বয়স ও অভিজ্ঞতাও অনেক কম। তাই এমন গান গেয়ে ফেলেছেন। তবে বর্তমানে বয়স, অভিজ্ঞতা বাড়ার সাথে সাথে দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে তাই আর এমন গান ভুলেও গাইবেন না শ্রেয়া। তিনি আরও দাবি করেন, ‘চিকনি চামেলি’র পরেও নারীদের অসম্মানজনক নানা গান গাওয়ার প্রস্তাব পান। সুরকার বন্ধুও নাকি অশালীন গানের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেসব গান তিনি সাফ নাকচ করে দেন। এই সাক্ষাতকারেই লাইভ কনসার্টে শিল্পীদের বদভ্যাস নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করলেন শ্রেয়া ঘোষাল। বিগত কয়েক মাস ধরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লাইভ শো করতে গিয়ে শিল্পীদের বিভিন্নভাবে হেনস্তার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কোথাও শিল্পীদের মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে আবার কোথাও বা ভক্তদের তাণ্ডবে তিতিবিরক্ত হয়ে শিল্পীরা নিজেরাই মঞ্চ ছেড়ে নেমে গিয়েছেন। এমন আবহে শ্রেয়ার মতে এই ঘটনার জন্য দায়ী শিল্পীরা নিজেই। কারণ বেশ কিছু শিল্পী অন্য পন্থায় হাঁটেন। মঞ্চে কণ্ঠ ছাড়ার পরিবর্তে ‘লিপ সিঙ্ক’ করেন তাঁরা। ফলত, অনেকসময়ে লাইভ শোয়ের মজাটাই মাটি হয়ে যায়। শিল্পীদের এহেন ‘শর্টকাট সংস্কৃতি’কে ‘অলসতা’র আখ্যা দিয়ে এই পডকাস্টে জাতীয় পুরস্কারজয়ী গায়িকা জানান, “এটা তো অলসতার পরিচয়। তাহলে সেই শিল্পী কঠোর পরিশ্রম করেন না। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, এই ধরনের পন্থা অবলম্বন করা মোটেও ঠিক নয়।” এখানেই অবশ্য থামেননি তিনি। ‘প্লেব্যাক সম্রাজ্ঞী’র সংযোজন, “শ্রোতা-দর্শকরা যেটা পছন্দ করেন, আমি সেটা অস্বীকার করতে পারি না। একজন শিল্পী হিসেবে আমারও কিছু দায়বদ্ধতা, নীতি রয়েছে। আমার নিজের কোনও গানের ক্ষেত্রেও যদি এটা ঘটে, তাহলে আমি নিজেও সেটা শুনতে পারব না। আমার কাছে এই বিষয়টি অত্যন্ত অপমানজনক। কোনও কনসার্টে শিল্পীর লাইভ পরিবেশনা যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে তাঁর অস্বস্তি বোধ করা উচিত। সেই শিল্পীর উচিত কঠোর পরিশ্রম করা। কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমেই সমাধানের পথ খোঁজা উচিত। কারণ শ্রোতাদের ভালোবাসায় সেই শিল্পী যে সিংহাসন আর মুকুট অর্জন করেছেন, সেটাকে মোটেই অবহেলা করা উচিত নয়।” শ্রেয়ার এহেন মন্তব্যে সিনেদুনিয়ার অনেকেই সায় দিয়েছেন। বর্তমানে আমাল মালিকের সঙ্গে ‘ইয়াহিন গুজার দুঁ’ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন শ্রেয়া। মিউজিক ভিডিওতে ফারহানা ভাটকেও দেখা গিয়েছে। ‘দ্য আনস্টপেবল ওয়ার্ল্ড ট্যুরে’র কথাও ঘোষণা করেছেন শিল্পী। ভারত, আমেরিকা, আবু ধাবিতেও রয়েছে অনুষ্ঠানের ভাবনা। তবে দিনক্ষণ এখনও স্থির হয়নি।