মুক্তির আগেই ছাপাক-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

আগামীকাল মুক্তি পেতে চলেছে অতি প্রতিক্ষীত ছবি ‘ছাপাক’। তবে মুক্তির আগেই আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়ল দীপিকা পাড়ুকোন প্রযোজিত এবং অভিনীত এই ছবি। অ্যাসিড আক্রান্ত লক্ষী আগরওয়ালের জীবন যুদ্ধের কাহিনী নিয়েই তৈরি হয়েছে এই ছবি। এখানে লক্ষীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন দীপিকা। এখনও বড় পর্দায় মুক্তি পায়নি মেঘনা গুলজার পরিচালত এই ছবি। কিন্তু তার আগেই একের পর এক নতুন বিতর্কে ঘিরে ধরছে ‘ছপাক’কে। এ বার টিম ছপকের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে বৃহস্পতিবার মামলা দায়ের করলেন বাস্তবে লক্ষ্মী আগরওয়ালের আইনজীবী অপর্ণা ভাট। অপর্ণার অভিযোগ, লক্ষ্মীর পাশে এতগুলো বছর থাকার পরেও এবং ছবি বানানোর সময় টিম ‘ছ্পাক’ কে সবরকম সাহায্য করার পরেও গোটা ছবিতে কোথাও একবারের জন্য অপর্ণার প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেনি টিম। বুধবার এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে অপর্ণা লেখেন, ‘সেই সমস্ত বন্ধুদের ধন্যবাদ যারা ছপক ছবিতে আমার অবদানের কথা জেনে আমায় অভিনন্দন জানিয়েছেন। কিন্তু টিম ‘ছপাক’ একটা ধন্যবাদ পর্যন্ত বলার প্রয়োজন মনে করেনি। বলিউডের সব নামি দামী প্রযোজকদের তুলনায় আমার ক্ষমতা হয়ত নেহাতই নগণ্য। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমি আইনের দ্বারস্থ হব।’ বৃহস্পতিবার আইনজীবী অপর্ণা ভাট পাতিয়ালা হাউস আদালতের বিচারক পঙ্কজ শর্মার এজলাসে আবেদন করেছিলেন যে, ছবির নির্মাতারা কোথাও তাঁর নামোল্লেখ করেনি ছবির মধ্যে। আদালত ছবি প্রস্তুতকারকদের তাঁর নামোল্লেখের আদেশ দিয়েছে। লক্ষ্মী আগরওয়াল নামে যে অ্যাসিড আক্রান্তর জীবন নিয়ে ‘‌ছাপাক’ ছবিটি, তাঁর হয়ে অপর্ণা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে আইনি লড়াই লড়েছিলেন। এমনকি ছবির পরিচালক, প্রযোজক, চিত্র নাট্যকারকেও ছবি তৈরির সময় পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। অপর্ণার আইনজীবী সঞ্জয় পারিখ আদালতে বলেন, তাঁর মক্কেল কোনও অর্থ বা রয়্যালটি দাবি করছেন না ছবি থেকে। শুধু নিজের নামোল্লেখ চেয়ে সম্মান দাবি করছেন। পুরো ব্যাপারটি তিনি গত সাত তারিখ জানতে পারেন। তারপরই এদিন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন অপর্ণা বলে আদালতে জানান পারিখ। অপর্ণা সোশ্যাল মিডিয়াতেও ঘটনাটি উল্লেখ করে পোস্ট করলে তাঁকে সমর্থন জানান অনেকে। তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়ে অপর্ণা বুধবার পোস্টে লেখেন, ‘‌বলিউডের তাবড় প্রযোজকদের সঙ্গে ক্ষমতাবলে আমি পারব না। কিন্তু চুপ করে থাকলে আরও অন্যায় হতে পারে। তাই পরবর্তী পদক্ষেপ করলাম। যে কোনওরকম ফল ভুগতে তৈরি আমি।’‌ অপর্ণা লিখেছেন, ‘নিজের কাজের জন্য কখনও কিছু চাইনি। ছাপাক দেখার পর গভীরভাবে আঘাত পেয়েছি। নিজের পরিচয় ও অস্তিত্ব ধরে রাখতে আইনি পদক্ষেপ করতে বাধ্য হচ্ছি। পাটিয়ালা হাউস কোর্টে ক্রিমিনাল ট্রায়ালে আমি লক্ষ্মীর হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলাম। কাল আমার জন্য অন্য কেউ প্রতিনিধিত্ব করবেন…এটা জীবনের সমাপতন…সব বন্ধুদের ধন্যবাদ জানাই। এ ব্যাপারে আর চুপ থাকলে সেটা অবিচার হবে। আমি নিজের যুক্তিকে পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ে যাব বলে ঠিক করেছি। তার জন্য যা হয়, তার মুখোমুখি হওয়ার জন্য আমি তৈরি।’ বৃহস্পতিবারই দুপুর একটা নাগাদ শুনানি দেয় আদালত। সেখানে ‘‌ছপাক’-এর নির্মাতা, নির্দেশককে বিচারক আদেশ দেন ছবির কার্ডে যেন অবশ্যই অপর্ণা ভাটের নাম থাকে। ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে ফিল্মের স্ক্রিনিং। রিভিউতে অনেক অনেক নম্বরও পেয়ে গিয়েছে অ্যাসিড হামলায় আক্রান্ত লক্ষ্মী আগরওয়ালের জীবনের উপর তৈরি এই ফিল্ম। তবে এরই মধ্যে আইনি ফাঁসে জড়াল ছবিটি। যদিও গোটা ঘটনায় পরিচালক মেঘনা গুলজার-সহ লক্ষ্মীর চরিত্রে অভিনয় করা দীপিকা পাড়ুকোন…পুরো টিমের কেউই এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি।